বর্তমান সময়ে মানুষের সভ্যতার অগ্রগতির একটি বড় নিদর্শন হলো মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন প্রত্যেকটি পেশার প্রত্যেকটি মানুষের একটি অতি প্রয়োজনীয় বস্তু হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোন মানুষের অনেক কাজকে সহজলভ্য করে দিয়েছে। এছাড়াও যুগে যুগে মানুষের যোগাযোগের যে বিপর্যয় ঘটেছে তার একটি বড় সমাধান হল মোবাইল ফোন। বর্তমান সময়ের একটি মোবাইল ফোন আমাদের প্রাচীনকালের অনেক গুলো ডিভাইসের একটি সমষ্টি এবং বিশেষ সমাধান যার নাম মোবাইল ফোন। এই মোবাইল ফোন আমরা এখন ছোট বড় প্রায় সকলেই আমাদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করে থাকে। তবে অনেকেরই হয়তো এ বিষয় নিয়ে সঠিক সংজ্ঞাটি জানা নেই যে মোবাইল ফোন কাকে বলে। তাই আজ এ বিষয়ে সঠিক তথ্য গুলি তুলে ধরার চেষ্টা করব। এছাড়াও অতীতে কোন ইলেকট্রিক পণ্য মোবাইল ফোনের মত এতটা বিস্তার ঘটেনি।
মোবাইল ফোন-ই- একমাত্র ইলেকট্রিক বস্তু যা বিশ্বের প্রায় সকল দেশে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছে। মোবাইল ফোন এখন আর বিলাসিতার পণ্য নয়। বরং মোবাইল ফোন এখন দৈনন্দিন জীবনে একটি নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু হিসেবে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৫ দশক আগের এক একটি মোবাইল ফোন এর তুলনায় বর্তমান স্মার্টফোনগুলো যেন একেকটি সুপার কম্পিউটার। আজকের এই মোবাইল আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গ হিসেবে আমাদের সকলের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর সেই কারণেই আমাদের অনেকেরই এমন অবস্থায় পরিণত হয়েছে যে মোবাইল ফোন ছাড়া একটি মিনিট বা একটি ঘন্টা অতিবাহিত করা অনেক কষ্টসাধ্য। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা প্রায় প্রত্যেকটি বিষয়ে আমাদের জীবনকে সহজলভ্য করে তুলেছি যদি অতীতের কোন একটি বিষয় নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে অবশ্যই আমরা এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারব। যেমন অতীতে যোগাযোগের জন্য প্রাচীনকালে রাজা বাদশারা বিভিন্ন বার্তাবাহক ও পাখি বা কবুতর ব্যবহার করে থাকতো যেটি আমাদের কাছে গল্পের নেই যা আমরা এখন পূর্বের ছবি বা চিত্রনাট্যে দেখে থাকি।
এরপরে একটা সময় ডাক যোগে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করা হতো যা অনেক কষ্টসাধ্য এবং অধিক সময়ের ব্যাপার ছিল। কিন্তু এখন আমরা এমন একটি সভ্য জগতে এসে পৌঁছেছি যে হাজার হাজার শত শত মাইল দূরেও ন্যানো সেকেন্ড এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারি যা কলিং মেসেজিং বা মেল এর মাধ্যমে আমরা সম্পাদন করে থাকি। এরকম অনেক বিষয় এমন রয়েছে যা মোবাইল ফোন এর কারণে আমরা খুব সহজেই এখন সম্পাদন করে থাকি। কিন্তু প্রাচীন যুগে যখন এই সামগ্রীগুলি ছিল না বা আবিষ্কৃত হয়েছিল না তখন তারা এই জিনিসটি নিয়েই যা আমরা এখন ন্যানো সেকেন্ডে করতে পারছি সেটাই তারা মাসের পর মাস দিনের পর দিন সময় ব্যয় করে সম্পাদন করত। এখন আমরা যদি বলি যে মোবাইল ফোন কাকে বলে…? তাহলে এর উত্তরে বলা যেতে পারে, মোবাইল শব্দের অর্থ ঘূর্ণায়মান। অর্থাৎ যে ফোন নামক বস্তুটি পৃথিবীর সকল স্থানে নিয়ে যাওয়া যায় এবং যোগাযোগের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সহজলভ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করে তাকেই মোবাইল ফোন বলে।
মোবাইল ফোন কত প্রকার ও কি কি
মোবাইল ফোন মূলত দুই প্রকার: যার প্রথম প্রকারটি হল C.D.M.A অর্থাৎ Code Division Multiple Access এবং দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: G.S.M অর্থাৎ global system for mobile communication মূলত নেটওয়ার্ক এর ওপর ভিত্তি করেই মোবাইল ফোনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় অর্থাৎ প্রথম যে ভাগটি রয়েছে C.D.M.A অর্থাৎ Code Division Multiple Access এর অর্থ হল 2G নেটওয়ার্ক যা বর্তমানে আমরা বাটন ফোন বা স্বল্প দামে ব্যবহৃত ফোন গুলোতে ব্যবহার করে থাকি। আর দ্বিতীয় যে ধরনটি রয়েছে সেটি হল G.S.M অর্থাৎ global system for mobile communication এর অর্থ হল 3G, 4G, 5G, নেটওয়ার্ক যা আমরা স্মার্টফোনে ব্যবহার করে থাকি এক কথায় যেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা বিশ্বে যোগাযোগ স্থাপন করা যায় সেটাই মূলত G.S.M নেটওয়ার্ক। আর নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই মোবাইলকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে।